Breaking News

বুড়িয়ে যাচ্ছি ভেবে মন খারাপের কিছু নেই, বয়সের ছাপ কমাতে শুরু হোক প্রস্তুতি

বলিরেখা, দূষণ ও অনিয়মের কারণে দ্রুত চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে। বুড়িয়ে যাচ্ছি ভেবে মন খারাপের কিছু নেই। ত্রিশ বা চল্লিশের কোঠায় পা দেওয়ার আগেই শুরু হোক প্রস্তুতি। যে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী, তাকে ঠেকানোর সাধ্য কার, বলুন। বরং পরিবর্তনের কথা জেনে রেখে নিজের প্রতি খেয়াল রাখুন।

সৌন্দর্য বাড়াতে গোলাপ জলের কোনও বিকল্প নেই। শুষ্ক ত্বক হোক, বা হোক কোন ব্রণের সমস্যা। সব ধরনের ত্বকের রোগ দূর করতে গোলাপ জল দারুন কাজে আসে। তাই তো এর এত জনপ্রিয়তা। প্রসঙ্গত, গোলাপ জল ত্বককে প্রয়োজনীয় আদ্রতা প্রদান করে। ফলে ত্বকের সৌন্দর্য আপনা থেকেই বৃদ্ধি পায়।
তবে গোলাপ জল নিজে নিজে বাসায় তৈরি করে নেয়া ভাল। বাহিরের বোতলজাতে খারাপ উপকরণ মিশানো থাকতে পারে। গোলাপ জল আমাদের কি কি উপকারে আসতে পারে, আসুন জেনে নেয়া যাক-

১। গোলাপ জলে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা চোখের চারপাশের ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য় করে। ফ্রিজে পরিমাণ মতো গেলাপ জল কিছুক্ষণ রেখে দিন। তারপর একটা তুলো সেই ঠান্ডা গোলাপ জলে চুবিয়ে চোখের চারিপাশে লাগান। চোকের পলকেই দেখবেন কমে যাবে চোকের চারপাশের ফোলাভাব।

২। গোসলের পানিতে ২০০ গ্রাম এর মতো গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। এটি আপনার ত্বককে লাবণ্যময় করে তুলবে। প্রতিদিন ব্যবহার করুন। আসলে গোলাপ জলে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা ত্বকের প্রদাহ তো কমাই, তার পাশাপাশি এর সুগন্ধের কারণে সার্বিকভাবে একটা ফ্রেশ অনুভূতি থাকে।

৩। একটা তুলোয় অল্প করে গোলাপ জলে নিয়ে মুখে লাগান। দেখবেন কেমন সুন্দরভাবে মেকআপ উঠে যায়। এখানেই শেষ নয়, মেক আপ তুলতে আরও একটি পদ্ধতি বেশ কাজে আসে। তুলাতে গোলাপ জল নিয়ে তার উপর অল্প করে নারকেল তেল নিন, তারপর সেই তুলো দিয়ে মুখটা ঘষুন। দেখবেন মেকআপ তো উঠবেই, সেই সঙ্গে ত্বকও সুন্দর হয়ে উঠবে। যাদের বাজার চলতি মেক আপ রিমুভার বা লোশন ব্যবহার করলে অ্যালার্জি হয়, তারা নিশ্চিন্তে গোলাপ জল ব্যবহার করতে পারেন।

৪। প্রতিদিন গোলাপ জলের ব্যবহার ত্বকের বয়সের ছাপ কমায়। এছাড়াও ত্বকের উজ্জ্বলতা এনে দেয়।

৫। টোনার হিসাবে গোলাপ জল ব্যবহার করলে ত্বকের ছিদ্রগুলি খুলে যায়, ফলে নোংড়া জমার সুযোগ পায় না। আর একথা তো সকলেরই জানা যে ত্বক পরিষ্কার থাকবে তো আপনা থেকেই সৌন্দর্য বাড়াবে।

৬। ত্বক মাঝে মাঝেই খুব শুষ্ক হয়ে যায়? চিন্তা নেই আজ থেকেই গোলাপ জল মুখে লাগানো শুরু করুন। ত্বককে মসৃণ বানানোর পাশাপাশি যে কোনও ধরনের ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন থেকেও ত্বককে বাঁচায় গোলাপ জল। তাই আজ থেকেই মুখে লাগাতে শুরু করুন এই তরলটি।

৭। পরিষ্কার ত্বক পেতে চাইলে গোলাপ জল আপনার একমাত্র বন্ধু হতে পারে। পরিমাণ মতো ঠান্ডা গোলাপ জল নিয়ে মুখে লাগান। দেখবেন ত্বক পরিষ্কার তো হবেই, সেই সঙ্গে ত্বকের হারিয়ে যাওয়া উজ্জ্বলতাও ফিরে পাবেন।

আরও কিছু টিপস

~ বয়স হলে মুখের ত্বক খানিকটা ঝুলে পড়তে পারে। এটি এড়াতে আঙুলের সাহায্যে ওপরের দিকে চাপ দিতে দিতে মুখে ম্যাসাজ করতে হবে। মুখে ক্রিম লাগানোর সময় এভাবে চাপ দিয়ে লাগালে পরবর্তী সময়ে উপকার পাবেন।

* প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার অথবা অ্যান্টি-রিঙ্কলিং ক্রিম সুন্দরভাবে ম্যাসাজ করে নিন। চামড়ায় ভাঁজ চলে আসার আগেই এমন অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। বাজার থেকে যেকোনো ক্রিম কিনে আনার পর অবশ্যই প্রথমে লাগিয়ে দেখতে হবে, সেটি আপনার ত্বকে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া করছে কি না। ত্বকের সঙ্গে মানিয়ে গেলে তবেই পুরোদমে সেটি ব্যবহার শুরু করবেন, অন্যথায় সেই ক্রিম ব্যবহার করা যাবে না।

* কুসুম গরম পানিতে সামান্য লেবু ও এক চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন প্রতিদিন সকালে।

* এক গ্লাস পানিতে আমলকী, কাঁচা হলুদ, আদা ও থানকুনি পাতা মিশিয়ে রস বানিয়ে খেতে পারেন প্রতিদিন সকালের নাশতার পর।

* প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে।

* রোদে গেলে ছাতা ব্যবহার করতে পারেন।

* মধু ও দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে ত্বকে লাগাতে পারেন। ত্বক পরিষ্কার করার পর ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের ভাঁজ (রিঙ্কল) প্রতিরোধে দুধ ও মধুর মিশ্রণ বেশ উপকারী। চাইলে মিশ্রণটিতে কাঠবাদামও যোগ করতে পারেন।

* অনেকের গলার ত্বকে আগেভাগে ভাঁজ পড়তে দেখা যায়। তাই সব সময় মুখের ত্বকের যত্ন নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গলার ত্বকের যত্ন নেওয়া উচিত। গলার ত্বকেও নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে।

* ১৫ দিন অন্তর ফেশিয়াল করানো উচিত। তবে বয়স একটু বেড়ে গেলে খেয়াল রাখতে হবে, যেন ত্বকে খুব বেশি ম্যাসাজ করা না হয়। এ বয়সে দক্ষ হাতে আকুপ্রেশার ফেশিয়াল করিয়ে নিতে পারেন। বয়স বেড়ে যাওয়ার পর ফেয়ার পলিশ করানো একেবারেই উচিত নয়। এ বয়সে যেকোনো রাসায়নিকের ব্যবহারে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

* বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাত ও পায়ের ত্বকেও আসে পরিবর্তন। ১৫ দিন অন্তর ম্যানিকিওর ও পেডিকিউর করানো ভালো।

Check Also

গায়ের রঙ ফর্সা হবে, মাত্র আধা ঘণ্টায়! ঘরে বসে খুব সহজে নিজেই ক্রিমটি বানান!

অনেকে রঙ চঙে রঙ ফর্সাকারী ক্রিমের বিজ্ঞাপন দেখে সেই ক্রিম কিনে মুখে লাগান দিনের পর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *