Breaking News

কৌশলে আটক করে প্রেমিক যুগলের বিয়ে!

দেখা দেখি থেকে ভাললাগা। তারপর ভালবাসা। এভাবে দুইজনের মধ্যে গড়ে উঠে গভীর প্রেমের সর্ম্পক। সম্পর্কের সুবাদে প্রেমিক স্থানীয় মুদির দোকানী মোহাম্মদ রাশেল প্রায় প্রতিদিন রাতে প্রেমিকার সাথে দেখা করতে চুপিচারে যেতেন ইউনিয়ন পরিষদের নারী উদ্যোক্তা কাউছার জাহানের বাড়িতে। তাদের মধ্যে হতো মেলামেশা। এভাবে কেটেছে অন্তত দুইবছর। দুইজনের বাড়ি চকরিয়া উপজেলার উপকুলীয় বদরখালী ইউনিয়নে।

অনুরুপভাবে মুঠোফোনে প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারী) রাতের অন্ধকারে কাউছার জাহানের বাড়িতে যান প্রেমিক রাশেল। ওইসময় এলাকার বেরসিক জনতা কৌশলে আটক করেন ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের মগনামা পাড়ার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে প্রেমিক রাশেলকে। এরপর ঘটনাটি জানানো হয় বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৪নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রোকন উদ্দিন খোকাকে।

ইউপি সদস্য ওইসময় তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপস্থিত স্থানীয় জনগনের সামনে ছেলে ও মেয়ের পরিবার সদস্যদেরকে ডেকে পাঠান। উভয়ের পরিবার উপস্থিত হলে বিষয়টি নিয়ে তাদের মতামত নেন। পরে দুইপক্ষ দুইজনকে বিয়ে দিতে সম্মত হন। দুইপক্ষের কথা মতো বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারী) প্রকাশ্যে জনগনের উপস্থিতিতে প্রেমিক যুগলের বিয়ের কাজ সম্পাদন করা হয়। ওইসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, বর-কণের পরিবার সদস্য ও স্থানীয় শ্রেণী-পেশার নাগরিক।

বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রোকন উদ্দিন খোকা বলেন, বর-কণের বিয়েতে উভয়ের পরিবারের সম্মতিক্রমে পাঁচলাখ টাকার দেনমোহর ধার্য্য করা হয়। বিয়ের রেজিষ্ট্রারে আড়াই লাখ টাকা নগদ ও আড়াই লাখ টাকা বকেয়া লিপিবদ্ধ করে উপস্থিত নিকাহ রেজিষ্ট্রার তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

জানা গেছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের ৪নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রোকন উদ্দিন খোকা, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তাজুল ইসলাম ভুট্টো, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল কাদের নুরু, ২নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তমিজ উদ্দিন আজাদ, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক কুতুবউদ্দিন ছোটন, পরিষদের দাফাদার নুরুল ইসলাম, গ্রাম পুলিশ নুরুল আলম, বেলাল উদ্দিন, বর-কণের পরিবার সদস্য ও স্থানীয় শ্রেণী-পেশার নাগরিক। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোনাজাত ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

জানতে চাইলে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল বশর। তিনি বলেন, দুইজন একে অপরকে ভালবাসে বলে শুনেছি। গতকাল উভয়পক্ষের পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিষয়টি আমাকে পরিষদের সদস্যরা জানিয়েছেন।

Check Also

একটু পড়বেন প্লিজ – রিক্সা চালাই।বিয়ে করেছিলাম এক বছর আগে আমার মতই এক গরীবের মেয়েকে !!

রিক্সা চালাই।বিয়ে করেছিলাম আজ থেকে এক বছর আগে।আমার মতই এক গরীবের মেয়েকে বউ করে এনেছিলাম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *